এক মাসের মধ্যেই ২৫ শিল্পপতিকে জমি, ১০০ কোটির বেশি বিনিয়োগে আর লাগবে না পুরসভা-পঞ্চায়েতের অনুমতি: শিল্পে বড় রোডম্যাপ শুভেন্দুর

মিলন মেলার বস্ত্র শিল্প সম্মেলন থেকে সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থা, দ্রুত জমি হস্তান্তর, সিন্ডিকেটমুক্ত পরিবেশ ও নতুন বিনিয়োগের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর।

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 06.08.2026 at 13:20 pm

বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,সর্নিকা দত্ত:

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব

শিল্পবান্ধব বাংলার বার্তা, বিনিয়োগ টানতে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্যে শিল্পায়নের গতি বাড়াতে একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত বস্ত্র শিল্প সম্মেলনে তিনি জানিয়ে দিলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে অন্তত ২৫ জন শিল্পপতির হাতে শিল্পের জন্য জমি তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে আর স্থানীয় পুরসভা বা পঞ্চায়েতের অনুমোদনের জন্য ঘুরতে হবে না। সব ধরনের অনুমোদন দেওয়া হবে সরকারের ‘সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম’-এর মাধ্যমে।

জমি পেতে আর দীর্ঘ অপেক্ষা নয়

দীর্ঘদিন ধরেই শিল্পমহলের অভিযোগ ছিল, জমি সংক্রান্ত জটিলতা, লালফিতার দৌরাত্ম্য এবং স্থানীয় স্তরের নানা বাধা পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিনিয়োগের পথে অন্যতম বড় অন্তরায়। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই সরকার দ্রুত জমি হস্তান্তরের নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমরা এক মাসের মধ্যে কমপক্ষে ২৫ জন ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টকে ল্যান্ড হ্যান্ডওভার করতে চলেছি। ল্যান্ড পারচেজ পলিসি চালু করেছি। কৃষক স্বেচ্ছায় জমি দিচ্ছেন। ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পলিসিও চালুর চিন্তাভাবনা চলছে।”

১০০ কোটির বেশি বিনিয়োগে মিলবে বিশেষ সুবিধা

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ১০০ কোটির বেশি বিনিয়োগকারী শিল্প সংস্থাগুলিকে আর পুরসভা, কর্পোরেশন বা পঞ্চায়েতের আলাদা অনুমোদনের জন্য যেতে হবে না। সমস্ত প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র এক জায়গা থেকেই দেওয়া হবে।

এই পদক্ষেপের ফলে প্রকল্প অনুমোদনের সময় কমবে এবং শিল্প স্থাপনের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে বলে মনে করছে শিল্পমহল।

‘সিন্ডিকেট রাজ, কাটমানি অতীত’— কড়া বার্তা

বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বর্তমানে রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার রয়েছে এবং পুরনো দিনের সিন্ডিকেট রাজ, কাটমানি, চাঁদাবাজি বা তোলাবাজির কোনও স্থান নেই।

আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,

“প্রথমে আইনব্যবস্থাকে ঠিক করতে হবে। গুন্ডাগিরি, সিন্ডিকেট রাজ, কাটমানি ও চাঁদাবাজির পরিবেশ বদলানো হয়েছে। এখন বিজনেস-ফ্রেন্ডলি এনভায়রনমেন্ট তৈরি করা হচ্ছে।”

ইতিমধ্যেই শুরু নতুন বিনিয়োগ

শুধু ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি নয়, ইতিমধ্যেই রাজ্যে একাধিক বড় শিল্প বিনিয়োগ শুরু হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি জানান—

  • লাক্স কোজি-র নতুন বিনিয়োগ প্রকল্পের ভূমিপুজো সম্পন্ন হয়েছে।
  • আমুল উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে আইসক্রিম কারখানার জন্য ১৫ একর করে জমি পেয়েছে।
  • দুধ, মিষ্টি দই ও অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনের নতুন প্রকল্পও গড়ে উঠছে।
  • শ্যাম স্টিল প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে সম্প্রসারণ করছে।
  • পুরুলিয়ায় অমিত মেটালিকস প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার নতুন শিল্প প্রকল্প গড়ে তুলছে।

‘এই সরকার আপনাদের সরকার’

শিল্পপতিদের উদ্দেশে শুভেন্দু অধিকারী বলেন,

“এই সরকার আপনাদের সরকার। আপনারা বাংলার শিল্প ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে আসুন, সরকার সবসময় পাশে থাকবে।”

শিল্পবান্ধব নীতি, দ্রুত জমি বরাদ্দ, সিঙ্গল উইন্ডো পরিষেবা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর মতো একাধিক পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজ্যে নতুন শিল্পায়নের বার্তা দিল সরকার। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, এই নীতিগুলি বাস্তবায়িত হলে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।