জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রে বড় পরিবর্তন! প্রধান-মেয়রদের ক্ষমতা প্রত্যাহার, স্থায়ী সরকারি কর্মীদের হাতেই ইস্যুর দায়িত্ব

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 23.07.2026 at 14:25 pm

বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা, সর্নিকা দত্ত:

ছবি – নিজস্ব

জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু প্রক্রিয়ায় বড়সড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চায়েত প্রধান, পুরসভার চেয়ারম্যান ও কর্পোরেশনের মেয়রদের হাতে থাকা জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষমতা এবার প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরিবর্তে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব শুধুমাত্র স্থায়ী সরকারি আধিকারিকদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল জানান, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভুয়ো জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম ও জালিয়াতি বন্ধ করা। তাঁর কথায়, এটি রাজ্যের প্রশাসনিক ‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রশাসনের দাবি, অতীতে বিভিন্ন এলাকায় জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যুর ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে। টাকার বিনিময়ে বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভুয়ো শংসাপত্র তৈরি হওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। এর ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন, আধার কার্ড, সরকারি নথিপত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জালিয়াতির ঘটনা বেড়েছে। সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়ও বিপুল সংখ্যক সন্দেহজনক শংসাপত্র সামনে আসে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে কেবলমাত্র স্থায়ী সরকারি কর্মীরাই জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু করতে পারবেন। কোনও চুক্তিভিত্তিক কর্মী বা জনপ্রতিনিধির হাতে এই ক্ষমতা থাকবে না। প্রশাসনের মতে, স্থায়ী সরকারি কর্মীরা চাকরিজীবনের পুরো সময় প্রশাসনিক নিয়ম ও শৃঙ্খলার আওতায় থাকায় তাঁদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।

এছাড়াও রাজ্য সরকার জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থাকে কেন্দ্রের Civil Registration System (CRS)-এর সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে একই তথ্যের একাধিক ব্যবহার, ডুপ্লিকেট নথি তৈরি বা জালিয়াতির সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে বলে আশা প্রশাসনের।

যাঁদের কাছে দীর্ঘদিনের বসবাস সত্ত্বেও কোনও বৈধ জন্ম বা মৃত্যু শংসাপত্র নেই, তাঁদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মুখ্যসচিব জানান, সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসক বা তাঁর প্রতিনিধি সরেজমিন তদন্ত, ভিডিওগ্রাফি এবং স্থানীয় সাক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রকৃত তথ্য যাচাই করবেন। তথ্য সঠিক প্রমাণিত হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকেই শংসাপত্র ইস্যু করা হবে।