ধর্মতলায় সাংবাদিকদের উপর হামলা ‘সুপরিকল্পিত’, দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করতে একটি মোবাইলই যথেষ্ট: বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত

এসএসকেএমে আহত সাংবাদিকদের দেখে ক্ষোভ উগরে দিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি, সংবাদমাধ্যমকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছে; মোবাইলে ধরা ভিডিওই অভিযুক্তদের শনাক্ত করার জন্য যথেষ্ট। ক্যাগ রিপোর্ট, নকল ওষুধ চক্র ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতেও সরব বিরোধী দলনেতা।

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 25.07.2026 at 19:20 pm

বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা, সর্নিকা দত্ত:

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত

ধর্মতলায় আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। শনিবার বিধানসভার প্রেস কর্নারে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে ‘সুপরিকল্পিত ও সংগঠিত হামলা’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সংবাদমাধ্যমকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে।

শুক্রবার গভীর রাতে এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেন বিরোধী দলনেতা। বর্ষীয়ান সাংবাদিক মাখনবাবুসহ আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পর তিনি জানান, হামলাকারীদের শনাক্ত করা মোটেও কঠিন নয়।

ঋতব্রতের দাবি, “মাখনবাবুর মোবাইলে যে চলমান ছবি ধরা রয়েছে, সেটাই দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার জন্য যথেষ্ট।” তাঁর মতে, ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

আন্দোলনকারীদের আচরণের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জুতোটা খুব সুন্দর, জুতোটা খুলে নে—এটা কোনো ছাত্র আন্দোলনের ভাষা হতে পারে না।” তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনের আড়ালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদমাধ্যমকে টার্গেট করা হয়েছে এবং হামলার পাশাপাশি লুটপাটেরও চেষ্টা হয়েছে।

পতাকার লাঠি প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, “যে ধরনের লাঠি ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো পতাকা বহনের জন্য নয়, মারধরের উদ্দেশ্যেই তৈরি।” তাঁর মতে, পরিকল্পনা করেই এই হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

আন্দোলনের দায় এড়ানোর রাজনীতিরও সমালোচনা করেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, “আন্দোলনের সাফল্যের কৃতিত্ব নেওয়া হবে, কিন্তু গোলমালের দায় কেউ নেবে না—এই মানসিকতা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক।”

হামলাকারীদের ‘থাগ’ ও ‘লুম্পেন প্রোলেতারিয়েত’ বলে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের নামে হুলিগানিজম ও অরাজকতা বরদাস্ত করা যায় না। তাঁর বক্তব্য, “মাখনবাবুর মোবাইলই যথেষ্ট এই সমস্ত দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার জন্য। আইনের কঠোরতম ধারায় ব্যবস্থা নিতে হবে।”