ত্রিপুরার ডিজিপি অনুরাগ ধনখড়ের রহস্যমৃত্যু, পুলিশ সদর দফতরেই উদ্ধার দেহ

আগরতলার পুলিশ সদর দফতরে নিজের অফিসে মৃত অবস্থায় উদ্ধার ত্রিপুরার পুলিশ মহাপরিচালক অনুরাগ ধনখড়। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার আশঙ্কা, তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা।

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 20.07.2026 at 13:35 pm

বঙ্গবার্তা ওয়েব ডেস্কঃ

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং সোশ্যাল মিডিয়া

চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্তম্ভিত ত্রিপুরা। রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) অনুরাগ ধনখড়-এর দেহ উদ্ধার হয়েছে আগরতলার পুলিশ সদর দফতরে তাঁর নিজস্ব দফতর থেকে। এই ঘটনায় গোটা পুলিশ প্রশাসন ও রাজ্য সরকারে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডিজিপিকে তাঁর অফিস কক্ষে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। যদিও তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার সম্ভাবনার কথা উঠে এলেও পুলিশ এখনও কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

ময়নাতদন্তে জোর, তদন্ত শুরু

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ডিজিপির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল ময়নাতদন্ত করছেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

একইসঙ্গে পুলিশ সদর দফতরের ডিজিপির দফতর ঘিরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করছে। ঘটনাটিকে ঘিরে একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী ও শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তারা

ঘটনার খবর পেয়েই ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ড.) মানিক সাহা পুলিশ সদর দফতরে পৌঁছান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব জে. কে. সিনহা-সহ স্বরাষ্ট্র দফতরের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক।

পুলিশ প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে থাকা এক আধিকারিকের এই রহস্যজনক মৃত্যুকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসার ছিলেন অনুরাগ ধনখড়

১৯৯৪ ব্যাচের ভারতীয় পুলিশ পরিষেবা (IPS)-এর কর্মকর্তা অনুরাগ ধনখড় প্রায় এক বছর আগে ত্রিপুরার ডিজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কর্মজীবনে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

সূত্রের দাবি, সিবিআই-তে কর্মরত অবস্থায় তিনি নীরব মোদী মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়াও ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গা-সংক্রান্ত বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। দক্ষ ও অভিজ্ঞ পুলিশ আধিকারিক হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল সর্বভারতীয় স্তরে।

সরকারি নিশ্চিতকরণের অপেক্ষা

ডিজিপির মৃত্যুর ঘটনায় নানা জল্পনা তৈরি হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে না। পুলিশের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে গোটা দেশ।