‘ভিতরে থাকবেন না বাইরে, ভবিষ্যৎই বলবে’— বিধানসভায় অভিষেককে কড়া নিশানা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

২১ জুলাইয়ের বক্তব্যের পাল্টা বিধানসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুর। ডায়মন্ড হারবারে লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা এবং তৃণমূল-সিপিএম উভয়ের বিরুদ্ধেই কঠোর অবস্থানের ঘোষণা।

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 22.07.2026 at 20:25 pm

বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,সর্নিকা দত্ত:

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব

২১ জুলাইয়ের সভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক হুঁশিয়ারির ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে পাল্টা তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অভিষেককে সরাসরি নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভিতরে থাকবেন না বাইরে, ভবিষ্যৎই বলবে।” তাঁর বক্তব্য ঘিরে বিধানসভায় রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছায়।

মুখ্যমন্ত্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, আগামী দিনে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। একই সঙ্গে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে দাবি করেন, সেখানে অভিষেককে আরও বড় ব্যবধানে পরাজিত করা হবে।

ডায়মন্ডহারবারে সরাসরি চ্যালেঞ্জ

বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ২০৩১ সালের নির্বাচনের কথা বলা হলেও, তার আগেই রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে যাবে। তাঁর দাবি, ডায়মন্ডহারবারে অভিষেক যত ভোটে জিতেছেন, তার থেকেও বেশি ব্যবধানে তাঁকে হারানো সম্ভব।

‘তৃণমূলের নাম-নিশানা মুছে দেব’

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকে সামনে রেখে আগামী দিনে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, “এই ভাইপো-পন্থী তৃণমূলের নাম-নিশানা পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুছে দেব।”

সিপিএম ও তৃণমূল— দুই আমলেই দুর্নীতির অভিযোগ

শুধু তৃণমূল নয়, বামফ্রন্ট সরকারের আমলেও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সিপিএম রাজনৈতিক দুর্নীতির সংস্কৃতি গড়ে তুলেছিল, আর তৃণমূল সেই দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।

তবে তিনি বলেন, সব নেতাকে একসঙ্গে দেখা উচিত নয়। অতীতের কিছু সৎ বাম নেতার প্রশংসাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি স্পষ্ট করে দেন, দুর্নীতিতে যুক্ত যে-ই হোক, তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২১ জুলাইয়ের সভা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা

একুশে জুলাইয়ের সভা প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রশাসন চাইলে ওই সভা বন্ধ করে দিতে পারত। কিন্তু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতেই সব পক্ষকে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যাতে এক সভার শব্দ অন্য সভার কাজে ব্যাঘাত না ঘটায়।

রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২১ জুলাইয়ের বক্তব্য এবং তার পাল্টায় শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। আগামী দিনে এই বাকযুদ্ধ রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।